শিক্ষামুলক গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শিক্ষামুলক গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৫ মে, ২০১৭

বাতিঘর

কোণাচোখে তারিককে পাশের টেবিলে আরাম করে বসতে দেখে জামিল দ্রুত গলা নামিয়ে বলে, ‘শুনুন, আপনি কিন্তু কিছুতেই আমাকে বিয়ে করতে রাজি হবেননা’।
ঘটনার আকস্মিকতায় থতমত খেয়ে যায় ফারজানা। সে লোকটাকে চেনেনা, জানেনা, কোন সালাম নেই, সম্ভাষন নেই, হুট করে এই আচমকা অনুরোধ! তারিকের দিকে জামিলের চোরা চাহনি, ফিসফিস কথা বলার ভঙ্গি আর এই অদ্ভুত প্রস্তাব- সব মিলিয়ে কিম্ভুত এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ হাসি পেয়ে যায় ওর। হাসি চাপার চেষ্টা করতে করতে সে স্মিত হেসে বলে, ‘আসসালামু আলাইকুম’।
এবার নিজের অভদ্র আচরন স্মরন করে জামিল নিজেই একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে, লজ্জা লজ্জা চেহারায় টেবিলের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’।
‘আমার নাম ফারজানা’।
‘জ্বি, তারিক ভাই এইমাত্র বললেন। আমি জামিল’।
‘আপনার মত আমিও আসলে এখন বিয়ে করতে উৎসাহী নই। কিন্তু আমি যদি এই মূহূর্তে উঠে চলে যাই তাহলে বিয়ে করবনা বললে ভাইয়া কিছুতেই কনভিন্সড হবেনা। সুতরাং, আমাদের মনে হয় কিছুক্ষণ অন্তত কথা বলার অভিনয় করা উচিত’।

জামিল বুঝতে পারল কথায় যুক্তি আছে, কিন্তু সে কি বলবে? ওর তো এটুকুই শুধু বলার ছিল!
ফারজানাই এগিয়ে এলো, ‘আচ্ছা, আপনি বিয়ে করতে না চাইলে দেখা করতে চাইলেন কেন? আপনি তো মেয়ে না যে কেউ আপনাকে জোর করে বাধ্য করতে পারবে!’
জামিল ওর দিকে তাকালে দেখতে পেত ওর চোখের তারায় কৌতুক, কিন্তু টেবিলের দিকে তাকিয়ে থাকায় সে ফারজানার কথায় দুষ্টুমির ভাবটা ধরতে পারলনা। খুব অপরাধী, মাটির সাথে মিশে যেতে পারলে বাঁচে এমন চেহারা করে আমতা আমতা করে বলতে লাগল, ‘আসলে আমার বাবামা ভাইবোন কেউ নেই। চাচা চাচীর কাছে মানুষ। এখন শহরে থাকি বলে তাঁদের সাথেও তেমন যোগাযোগ হয়না। একা থাকি বলে তাঁদের চিন্তার অন্ত নেই। চাচা তাঁর এক বন্ধুকে বললেন আমার জন্য মেয়ে দেখতে। আমার নিজের কোন কুলকিনারা নেই, সাধারন একটা পেটেভাতে চাকরী করি, ছোট্ট একটা দু’কামরার ঘরে ভাড়া থাকি- এই জীবনে কাউকে জড়িয়ে কষ্টে ফেলে লাভ আছে? কিন্তু চাচা চাচী কিছুতেই বুঝতে চান না। চাচার এক বন্ধু আপনার ভাইকে চেনেন। ওঁরা আমাকে এমনভাবে ধরলেন যে মেয়ে না দেখে কোন সিদ্ধান্তই তারা শুনবেন না। তাই আপনাকে কষ্ট দিতে হোল। আপনাকে এখানে আসতে বাধ্য করা হয়ে থাকলে সেজন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত। প্লীজ আমাকে মাফ করে দেবেন’।
জামিলের হাবভাবে এবার ফারজানা কিছুতেই হাসি চেপে রাখতে পারলনা, খিক করে একটু হাসি দিয়েই মুখে হাত চেপে ধরল। এবার জামিল থতমত খেয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘আমি কি এমন কিছু বলেছি যা আপনার অস্বাভাবিক মনে হয়েছে?’ ফারজানা হাসি সংযত করার চেষ্টা করে বলে, ‘নাহ, তবে আপনার চেহারায় কেমন যেন একটা চোর চোর মার্কা দুঃখী দুঃখী ভাব আছে, হি হি…’
‘চোর চোর?’, কনফিউজড হয়ে যায় জামিল।
‘জ্বি, আদিব, আমার ভাইয়ের ছেলেটা বিস্কিট চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে গেলে যেমন চেহারা বানায় আপনার চেহারাটা ঠিক তেমন লাগছে, হি হি হি…’
এবার জামিলও হেসে ফেলে।
‘আচ্ছা, আপনি কি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েন?’
অপ্রত্যাশিত প্রসঙ্গ পরিবর্তনে আবার ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় জামিল, শুধু উত্তর দিতে পারে, ‘জ্বি’।
‘আপনি কি লেখাপড়া করতে পছন্দ করেন? যেমন কুর’আন হাদিস পড়া, গল্পের বই পড়া, বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা ইত্যাদি?’
‘জ্বি, নিয়মিত পড়ি’।
‘আপনি কি সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করেন?’
‘জ্বি’, কথাবার্তা যে কোনদিকে যাচ্ছে কিছুই ঠাহর করতে পারেনা জামিল।
‘আপনি কি বিশ্বাস করেন যে সৃষ্টিকর্তা আপনাকে কোন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এবং তিনিই আপনাকে সেই উদ্দেশ্যের কাছে পৌঁছে দেবেন?’
‘জ্বি’।
‘তাহলে আপনার কি মনে হয় আপনার কথায় এই বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়? নাকি আপনার মন বিশ্বাসের কথা বললেও মুখ অবিশ্বাসের সাক্ষ্য দেয়?’

বাক্যালাপ এখানে এসে ঠেকবে স্বপ্নেও কল্পনা করেনি জামিল। কিন্তু এই অপরিচিত মেয়েটি তাকে এমন এক রূঢ় সত্যের সম্মুখীন করে দিয়েছে যা সে কখনো ভেবেও দেখেনি। সময় তাকে এমন এক ব্যাক্তিতে রূপান্তরিত করে দিয়েছে যে বিশ্বাসের কথা বলে অথচ নিরাশায় ভোগে, যে আত্মীয়তার জন্য হাহাকার করে অথচ আত্মীয়তার বন্ধনের মূল্যায়ন করতে পারেনা, যে আল্লাহর ওপর নির্ভরতার কথা বলে অথচ কারো দায়িত্ব নেয়ার জন্য নিজেকে নির্ভরযোগ্য মনে করেনা। হা করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোন জবাব দিতে পারেনা সে।
ওদিকে তারিক উঠে দাঁড়ায়, ফারজানাও সালাম দিয়ে ভাইকে অনুসরন করে। তারিক আর ফারজানাকে বিদায় দিয়ে আবার রেস্টুরেন্টের বে-আরাম চেয়ারটাতে বসে ভাবতে থাকে জামিল, মেয়েটা তাকে কি বলে গেল?

দু’ঘন্টা পর, ফারজানার বাসায়ঃ 

‘অ্যাই বলনা ছেলেটা দেখতে কেমন ছিল?’
‘সত্যি ভাবী, আমি খেয়াল করিনি। খুব বেশি খারাপ হলে হয়ত খেয়াল করতাম’।
‘তাহলে আমার যে ননদিনি এতদিন বিয়ে করতে রাজী হয়নি সে কি দেখে একঘণ্টায় বিয়ে করতে রাজী হয়ে গেল?’
‘ওহ, তুমি এটা জানতে চাও? বললেই তো হত!’, চোখ টিপে হেসে ফেলে ফারজানা।
‘জ্বি ফারজু বিবি, এটাই জানতে চাই’, গালে হাত দিয়ে কৌতুহল প্রকাশ করেন ভাবী।
‘শোন তাহলে- লোকটাকে দেখে মনে হোল আমি এই লোকটার জীবনে কিছু একটা অবদান রাখতে পারব, তার বিশ্বাসকে পূর্ণতা দান করতে সাহায্য করতে পারব, তার সাথী হতে পারব। অধিকাংশ পুরুষ বিয়ে করার সময় কাজের মেয়ে খোঁজে। ভাবী, আমার ঘরের কাজ আমি করব, তাতে আপত্তির কি আছে? কিন্তু সেটাই যদি বিয়ের একমাত্র উদ্দেশ্য হয় সেটা আমি মেনে নিতে পারিনা’।
‘তা তো ঠিক আছে ফারজু বিবি। কিন্তু তোমার ভাইয়া বলল ছেলেটাকে দেখে বিয়ের ব্যাপারে আগ্রহী মনে হয়নি, আমি ভাবছি তুমি তার জীবনে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে তা সে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কিনা’, চিন্তিত মনে হয় ভাবীকে।
‘ভাবী, লোকটাকে দেখে মনে হোল খুব সরল আর লাজুক প্রকৃতির কিন্তু বোকা না। উনি নানা কারণে জীবনের প্রতি আশাহত কিন্ত এই আশা জাগিয়ে তোলার মত বিশ্বাস ওনার মনের কোণে কোথাও অবশিষ্ট আছে’।
‘তাহলে আশা করি তুমি তার সেই ভঙ্গুর আশালতায় কোথাও দোলা দিতে পেরেছ’, ফারজানার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে জানালা দিয়ে বাইরে তাকান ভাবী। বাপমা মরা এই মেয়েটাকে নিজের মেয়ের মত করেই বড় করেছে তিনি। কোনদিন ওর বিশ্বাসে এতটুকু চির ধরতে দেননি। এই আশার উজ্জ্বল প্রদীপ, এই বাতিঘর যদি সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া কোন নাবিককে পথ দেখাতে পারে, পারে আরেকটি ঘরকে আলোকিত করতে, তবে এর চেয়ে বেশি আর কি সাফল্য আশা করতে পারেন তিনি?

তিনদিন পর, নদীর ধারেঃ 

‘মেয়েটা যে তোর জন্য perfect তা কি এখন তোর মাথায় ঢুকেছে না আরো সময় লাগবে?’, রোদের জন্য ভ্রূ কুঁচকে জামিলের দিকে তাকানোর চেষ্টা করে কামাল। জামিলের মুখটা ভারী উজ্জ্বল দেখাচ্ছে, ওটা কি রোদের আলো না আশার?
‘হিসেব করছি রে দোস্ত। কথায় কথায় ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদবে, বাচ্চাদের মত আবদার করে জীবন অতিষ্ঠ করে তুলবে এমন বৌয়ের ভীতি থেকেই বিয়ে করতে অনীহা বোধ করতাম। কিন্তু এই মেয়েটা প্র্যাক্টিকাল, সেন্সিবল, স্মার্ট, বুদ্ধিমতি এবং ঠিক আমার মত পরিস্থিতিতে বড় হয়েও ওর বিশ্বাসটা অত্যন্ত মজবুত। আমার জীবনের এক বিরাট সত্য সে আমাকে কি অবলীলায় বুঝিয়ে দিল মনে একটুও কষ্ট না দিয়ে! এই সাহচর্য আমার প্রয়োজন, ম্যাগ্নিফায়িং গ্লাস দিয়ে দুঃখগুলোকে দেখা বন্ধ করার জন্য ওর হাসির জোয়ার আমার জীবনে দরকার, সবচেয়ে বড় কথা ওর বিশ্বাসের শক্ত খুঁটিটা হতে পারে আমার জীবনের সে অবলম্বন যা আমি এতদিন খুঁজে খুঁজে হয়রান হচ্ছি’।
‘তাহলে তুই দেরি করছিস কিসের জন্য?’
‘মেয়েটা যে বলল সে বিয়ে করতে আগ্রহী না!’
‘তুই জিজ্ঞেস করেছিলি, কেন?’
‘নাহ’।
‘গাধা কোথাকার! জিজ্ঞেস করবিনা?’, ঈষৎ বিরক্ত হয় কামাল, পরক্ষণেই আবার আশাবাদী হয়ে ওঠে, ‘যাক, সে বুদ্ধিমতি মেয়ে, ঠিকই বুঝতে পারবে তোর জীবনে সে ফ্রেন্ড, গাইড অ্যান্ড ফিলোসফার হয়ে বিরাজ করতে পারবে। একজন বুদ্ধিমতি মেয়ের জন্য এটাই বড় প্রাপ্তি’।
‘কিন্তু ওর আমাকে পছন্দ হোল কি’না কিভাবে জানব?’
‘ওরে দোস্ত, ওর পরিবারের সাথে কথা বল, নাহলে জানবি কি করে?’
‘ওঁরা যদি না করে দেয়?’
‘হ্যাঁও তো বলতে পারে। তুই আগেই নিরাশ হলে মেয়েটা তোকে শেখালটা কি?’
মাথা নাড়ে জামিল, আজই কথা বলতে হবে।
‘তা মেয়েটা দেখতে কেমন রে?’
‘খেয়াল করিনি তো!’, নিজেই অবাক হয় জামিল, ‘কিন্তু খুব বেশি খারাপ না মনে হয়, তাহলে হয়ত খেয়াল করতাম’।
খুশি হয় কামাল, ‘যারা মানুষের অন্তর দেখে পছন্দ করে তারাই মেয়ে দেখে এসে বলতে পারে চেহারা খেয়াল করেনি। এই বিয়ে হলে তুই ঠকবি না দোস্ত’।
উঠে দাঁড়ায় দু’জনে, আনন্দের আতিশয্যে হঠাৎ স্লোগান ছাড়ে কামাল, ‘জামিল তুই এগিয়ে চল, আমরা আছি তোর সাথে’।
হো হো করে হেসে ফেলে দু’জনে।

ছয়মাস পরঃ 

‘আজকে তোমার নতুন চাকরী, এত সুন্দর জামাকাপড় পরেছ অথচ চুলটা আঁচড়াওনি। একটু গেলাম রান্নাঘরে আর ব্যাস, তোমার ফাঁকিঝুঁকি শুরু! তোমাকে নিয়ে আমি কি করি বলত?’, ব্যাস্তসমস্ত হয়ে পাশের রুম থেকে চিরুনী হাতে দৌড়ে আসে ফারজানা।
টেবিলে ঠান্ডা হতে দিয়ে যাওয়া খাবারগুলো টিফিন ক্যারিয়ারে ভরতে ভরতে জামিল বলে, ‘আমি চুল আঁচড়ালে সকাবেলা আমার মাথায় তোমার হাতের স্পর্শ নিয়ে বেরোব কি করে বলত? তুমি সকালে হাত দিয়ে ছুঁয়ে দিলে আমার সারাদিন মাথা ঠান্ডা থাকে, একদম যেন তিব্বত কদুর তেলের বিজ্ঞাপনের মত!’
‘হি হি হি’, ওকে হাসতে দেখে জামিলের হাসিটাও ঠোঁটের একপাশ থেকে পুরো মুখে ছড়িয়ে পড়ে। জামিলকে শেষপর্যন্ত হাসতে শেখাতে পেরেছে ফারজানা, ওর দুষ্টুমিগুলো এখন সে কিছু কিছু বোঝে, নিজেও দুষ্টুমি করতে শুরু করেছে দেখে বেশ উৎফুল্ল হয় সে।
‘যাবার পথে চাচা চাচীকে ফোন করে জানিয়ো নতুন চাকরিতে যাচ্ছ’।
‘ওঁরা জানেন তো’।
‘তাতে কি হয়েছে? ফোন করে জানাও, খুশি হবেন। আর বিকালে ফিরলে চাচীর জন্য শাড়ি কিনব যেন আগামী বৃহস্পতিবার নিয়ে যেতে পারি। আগামী মাসে বেতন পেলে চাচাকে পাঞ্জাবী কিনে দেব’।
‘আর তুমি কি কিনবে?’

‘বাহ, তোমার মতন এমন একটা চমৎকার গিফট থাকতে আমার আর কি লাগবে?’
মনে মনে একই কথা ভাবে জামিল, কিন্তু ওর মত সাবলীলভাবে বলতে পারেনা। বেহেস্তের টুকরোর মত বৌটার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে।
‘তুমি কি চাও তোমার নতুন অফিসে প্রথমদিন লেট হোক?’
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে জুতো পায়ে দিতে দিতে আবার ফারজানার দিকে তাকায় জামিল।
‘যাআআআও’, বলে হাতে টিফিন ক্যারিয়ারটা হাতে গুঁজে দিয়ে দরজা খুলে ওকে প্রায় ঠেলে বের করে দেয় ফারজানা।
শেষ একবার পেছন ফিরে তাকালে ফারজানা মিষ্টি হেসে বলে, ‘আসসালামু আলাইকুম’।
এই স্বর্গীয় সম্ভাষন কানে নিয়েই প্রতিদিন পৃথিবীর বন্ধুর পথে যাত্রা শুরু হয় জামিলের, সে স্মিত হেসে জবাব দেয়, ‘ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’।
এখনো রিক্সা পেতে দেরী হয়, বাসে ভিড় ঠেলে উঠতে কষ্ট হয়, অফিসে ঝামেলা হয়, দোকানে দরদাম নিয়ে মন কষাকষি হয়, দু’কামরার ঘরটাতে চাপাচাপি হয়, কোন কোনদিন ভাল তরকারীও থাকেনা। তবু কেন যেন পৃথিবীটাকে আর আগের মত জটিল মনে হয়না। দিনের শেষে ওর জীবনে আছে এমন এক সাথী যে ওর সুখদুঃখ সব সমানভাবে ভাগাভাগি করে নেয়, যে ওর কষ্টগুলোকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিতে পারে, যে ওর বিশ্বাসকে এক আলোর তৈরী মিনারের মত উচ্চকিত করে তোলে। হাসি পায় এই ভেবে যে এই দুই শ্রেষ্ঠ বন্ধুর প্রথম বাক্যালাপ ছিল, ‘আপনি কিন্তু কিছুতেই আমাকে বিয়ে করতে রাজি হবেননা’!

Read More »

রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৭

পাবলিক বাস

চীনে এক কলেজ ছাত্রী ও তার প্রেমিক পাবলিক বাসে কলেজে যাচ্ছ!! মেয়েটি ছিল খুব সুন্দরী এবং সে ছাড়া বাসটিতে অন্য সব যাত্রী ছিল পুরূষ।

হঠাৎ ৪-৫ জন যুবক মেয়েটির প্রেমিককে সরিয়ে মেয়েটি কে টেনে সিট থেকে বাসের দুই সিটের মাঝে মেঝেতে অানে!! মেয়েটিকে বাচাতে তার প্রেমিক কিংবা বাসের অন্য কোন যাত্রী ভয়ে এগিয়ে অাসেনি কিন্তু মেয়েটির ধর্ষণ দেখে একজন মধ্যবয়স্ক লোক এগিয়ে অাসলে ধর্ষণ কারীরা মারধর করে মেয়েটিকে এক এক করে ৫ জন ধর্ষণ করে মেয়েটিকে অাবার পোষাক পরিয়ে মেয়েটির প্রেমিকের সিটের পাশের সিটে বসিয়ে রাখে। তখন ও বাস চলতেছে। সব যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে বসে অাছে।



কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর মেয়েটি বাসের ড্রাইভারের পাশে বসা এক ধর্ষকের কোলে গিয়ে বসে, একটু পর ধর্ষকদের অনুরোধ করে, যে মধ্যবয়স্ক লোকটি তাকে বাচানোর চেষ্টা করেছিল ঐ লোকটিকে বাস থেকে নামিয়ে দিতে, ধর্ষকরা লোকটি কে নামিয়ে দিল। 


কিছুক্ষণ মেয়েটি নীরব এক ধর্ষকের কোলে বসে রইল!! ধর্ষক ও বাসের যাত্রী সবাই অবাক দৃষ্টিতে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইল। হঠাৎ মেয়েটি ড্রাইভারের হাত সরিয়ে বাসটিকে দূর্ঘটনা ঘটাল। বাসের সব যাত্রী মারা গেল। 

Read More »

মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৭

মৌমাছি ও কাঠুরিয়া

এক কাঠুরিয়া বনে গেল গাছ কাটতে। কিন্তু সে গাছ না কেটে মন খারাপ করে শুয়ে আছে একটা গাছের ছায়ায়। ওদিক দিয়ে ভনভন করে উড়ে যাচ্ছিল একটা মৌমাছি। সে কাঠুরিয়াকে মন খারাপ করে শুয়ে থাকতে দেখে কাছে গেল। মৌমাছি  কাঠুরিয়ার কাছে গিয়ে বলে- এই কাঠুরিয়া, তুমি এভাবে শুয়ে আছো কেন? কী হয়েছে তোমার?

কাঠুরিয়া মোচড় দিয়ে বলে উঠল- ভাই মৌমাছি, আমি খুব গরিব মানুষ। এক খণ্ড জমিও নেই আমার। এই কুঠারটাই আমার সম্বল। এই বন থেকে গাছ কেটে নিয়ে লাকড়ি করি, তারপর এগুলো বাজারে বিক্রি করে সাত মুখের সংসার চালাই। আজও এসেছিলাম গাছ কাটতে। কিন্তু আমি আজ গাছ কাটা শুরু করার আগে বনের গাছের দিকে ভালো করে তাকালাম। দেখলাম, কোনো গাছে ফুল ফুটেছে, কোনোটায় ফল ধরেছে, কোনোটায় পাখিরা বসে মনের সুখে গান করছে আর ওই গাছটার মোটা ডালাটায় দেখলাম মৌমাছিরা মধুর চাক বেধেছে। ওসব দেখে আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। ভাবছি, কোন্‌ গাছটা কাটব। অনেকক্ষণ ধরে শুয়ে থেকে চিন্তা করছি আমি। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না।  আর গাছ কেটে লাকড়ী না করতে পারলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে উপোস থাকতে হবে। কী যে করি!

কাঠুরিয়ার কথা শুনে মৌমাছির খুব মায়া হলো, সে কাঠুরিয়াকে বলল: তোমার কষ্টের কথা শুনে আমার খুব খারাপ লাগছে। কিন্তু এই বনে তো নানা প্রজাতির হিংস্র প্রাণি বাস করে। যেকোনো সময় তোমার বিপদ হতে পারে। তোমার ভয় করে না?
কাঠুরিয়া : ক্ষুধার চেয়ে বড় কষ্ট আর নাই। তাই জীবনের মায়া ছেড়ে দিয়ে এখানে আসি গাছ কাটতে।
মৌমাছি -আচ্ছা তুমি তো অনেক গাছ কেটেছ, তো লাগিয়েছ কয়টা?
কাঠুরিয়া: অনেক গাছ কেটেছি ঠিকই কিন্তু লাগাইনি একটিও। আর আমার তো জায়গা-জমি নেই, গাছ লাগাব কোথায়?
মৌমাছি:  নিজের জায়গা নেই বলে গাছ লাগাওনি; তবে গাছ কাটো কার জায়গা থেকে, শুনি?

একথা শুনে কাঠুরিয়া চুপ করে রইল। এবার মৌমাছি খানিকটা ধমকের  সুরে বলল: শোনা কাঠুরিয়া! তুমি আর কক্ষনো গাছ কাটবে না। গাছ কাটলে কত বড় ক্ষতি হয় তা তুমি জানো? দেখ না, বন যে উজাড় হয়ে যাচ্ছে! আমরা চাক বাধবো কোথায়? পশু-পাখিরাইবা কোথায় থাকবে? আর গাছ না থাকলে তোমাদের কী অবস্থা হবে ভেবে দেখেছ কখনো?
কাঠুরিয়া: বারে! আমরা তো আর তোমাদের মতো গাছের ডালে থাকি না। আমাদের আবার কী হবে?
মৌমাছি: কী হবে মানে? মারা যাবে একদম। তুমি কি জানো, গাছ তোমাদের কত বড় বন্ধু? এই গাছই তো জীবন বাঁচিয়ে রাখে।

কাঠুরিয়া: আরে, না না, আমি গরিব বলে এ বনের গাছ আমার জীবন বাঁচায়। গাছ কাটি লাকড়ি করি। আর লাকড়ি বিক্রি করে জীবন বাঁচাই। কিন্তু সব মানুষ তো আমার মতো গরিব নয় যে তাদের জীবন বাঁচাবে গাছ। এরা তো গাছের দিকে ফিরেও চায় না। এখন তুমি আমাকে এগুলো কী শোনাচ্ছ, আমার মাথায় তো কিছুই ঢুকছে না। একটু বুঝিয়ে বলো তো শুনি।




মৌমাছি:ঠিকাছে বলছি শোনো। অক্সিজেন নামের এক ধরণের গ্যাস আছে। এই গ্যাস ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। শ্বাস নেয়ার সময় প্রতিবারই এই গ্যাস মানুষ গ্রহণ করে। আর এ অক্সিজেন কে দেয় জানো? দেয় এই গাছ। সব গাছ যদি রাগ করে অক্সিজেন দেয়া কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে দেয় তা হলে ধনী-গরিব বলে কোনো কথা নেই; সবাই মারা পড়বে। এখন বুঝতে পারছ জীবন বাঁচানোর জন্য গাছের কত প্রয়োজন?
হাত থেকে কুঠারটা ফেলে দিয়ে কাঠুরিয়া রাগ দেখিয়ে বলল, তা বুঝলাম। কিন্তু গাছ না কাটলে আমার এত বড় সংসার চলবে কীভাবে-না খেয়ে?

মৌমাছি: কেউ না খেয়ে মরবে না। এতদিন তো এ বনই তোমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এর পরেও বাঁচিয়ে রাখবে। সারাজীবন ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্যে তোমাকে একটা ভালো কাজ করতে হবে কাঠুরিয়া ভাই।
কাঠুরিয়া: কী কাজ করতে হবে আমাকে, ঝটপট বলো।
মৌমাছি: প্রতিদিন তোমাকে দুটি করে গাছের চারা এনে এ বনে লাগিয়ে দিতে হবে।
কাঠুরিয়া: এতে আমার লাভ?
মৌমাছি: শুধু তোমারই না, এতে সবারই লাভ। তুমি বাঁচবে এবং আমরা সবাই বাঁচব। তুমি আমার কথা রাখ, তারপরে দেখা যাবে, কী করা যায়।
কাঠুরিয়া ঘাড় চুলকাতে চুলকাতে চলে বাড়ি গেল। পরের দিন কাঠুরিয়া মাথায় করে দু’টি কাঠের চারা এনে লাগিয়ে দিল বনে। এতে বনের সবাই খুশি হয়ে গেল। গাছেরা কাঠুরিয়াকে অনেক ধন্যবাদ দিল।

এ সময় কোথা থেকে যেন ভন ভন করে চলে এলো মৌমাছি। সে কাঠুরিয়ার হাতে পাতামোড়ানো আধাকেজি পরিমাণ মধু তুলে দিয়ে বলল,
মৌমাছি: এই নাও তোমার পুরস্কার। প্রতিদিন এভাবে তুমি গাছ লাগিয়ে বন বাঁচাবে; আমরা মধু দিয়ে বাঁচাব তোমাকে। আর এ সবুজ বন বাঁচাবে আমাদের সবাইকে। এবার বুঝেছ?
মধু পেয়ে কাঠুরিয়া খুশিতে টগবগ করতে লাগল। এরপর থেকে কাঠুরিয়া প্রতিদিনই কুঠারের পরিবর্তে চারাগাছ নিয়ে আসে বনে আর যাওয়ার সময় নিয়ে যায় মূল্যবান মধু। সে মধু বাজারে বিক্রি করে তার সংসার চালায়। আর বনের গাছপালা, পশু-পাখি ও মৌমাছিদের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেল কাঠুরিয়ার।


বন্ধুরা, গল্পের মৌমাছি আমাদের শিখিয়ে দিল যে,  লাগামহীন বৃক্ষনিধন বন্ধ করা দরকার। পাশাপাশি মাঝেমধ্যে গাছ লাগানোর বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। আর তাহলেই আমাদের বৃক্ষ সম্পদ যেমন বৃদ্ধি পাবে এবং তেমনি পরিবেশও হবে সুন্দর ও আকর্ষণীয়।
Read More »

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৭

ছোট্ট পাখি

একবার এক শিকারি ছোট্ট একটি পাখি ধরে ফেললো।পাখিটি খুব বুদ্ধিমান ছিলো। পাখিটি শিকারির খুব প্রশংসা করতে লাগলো যে, তুমি এতবড় শিকারি! জীবনে অনেক বাঘ মেরেছো, অনেক ভাল্লুক মেরেছো, এই করেছো, সেই করেছো। আমি একটা ছোট্ট পাখি, আমার ওজন ১০০ গ্রামও না, আমাকে খেয়ে তুমি কী করবে? আমাকে খেলে তো তোমার পেটের একটা কোনাও ভরবে না। তার চেয়ে বরং আমাকে ছেড়ে দাও। তোমাকে এমন তিনটি মূল্যবান বাণী শোনাবো যা তোমার সারাজীবন কাজে লাগবে। এমনভাবে সে কথাবার্তা বলছিলো যে শিকারির মন গলে গেল। কারণ তেল পেতে সবাই পছন্দ করে। আরেকজনকে গলানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে তেল। সে ভেবে দেখলো, ঠিকই তো। এত ছোট পাখি খেয়ে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে শুনি, পাখিটা কী বলতে চায়। হয়তো এতে আমার লাভ বেশি হবে। শিকারি রাজি হওয়ায় পাখিটি বললো, আমি প্রথম বাক্যটি বলবো তোমার হাতের ওপর বসে, দ্বিতীয় বাক্যটি বলবো এই গাছের ডালে বসে, তৃতীয় বাক্যটি বলবো গাছের মগডালে বসে। শিকারি বললো, ঠিক আছে। পাখি বললো, ‘কখনো অলীক কল্পনা করো না, যা অবাস্তব সেটা কখনো বিশ্বাস করো না’। শিকারি বললো, খুব ঠিক কথা। 


সত্যিই তাই। কখনো অবাস্তব কথায় বিশ্বাস করতে নেই। পাখি বললো, এবার আমাকে গাছের ডালে যেতে দাও। আমি দ্বিতীয় বাক্যটি বলবো। শিকারি ছেড়ে দিলো। গাছের ডালে উঠে পাখি বললো, ‘যা হাতছাড়া হয়ে গেল তা নিয়ে কখনো আফসোস করো না।’ শিকারি বললো, এটাও ঠিক। যা আর আমার নেই, তা নিয়ে আফসোস করা তো বোকামি। পাখি এবার মগডালে উঠলো। শিকারি বললো, এবার তৃতীয় উপদেশটি বল। পাখি বললো, তৃতীয়টি বলার আগে দেখে নিই, আগের দুটি উপদেশের শিক্ষা তোমার জীবনে কাজে লাগিয়েছো কি না। পাখিটি বললো, আমার পেটে আছে ২০০ গ্রাম ওজনের একটি মুক্তো। শুনে শিকারি খুব আফসোস শুরু করলো। হায় হায়! এ কী করলাম আমি! এভাবে হাতছাড়া করলাম ধনী হওয়ার এত সহজ সুযোগ! বলেই পাখিকে ধরার ব্যর্থ চেষ্টায় ওপরের দিকে লাফাতে লাগলো। কিন্তু পাখি তো তখন মগডালে। সে হাসলো। বললো, দেখ, আমি আগেই বলেছিলাম, অবাস্তব কথা কখনো বিশ্বাস করো না। আমার ওজনই ১০০ গ্রাম। আমার ভেতরে ২০০ গ্রামের মুক্তো থাকবে কীভাবে? বলেছিলাম, যা হাতছাড়া হয়ে গেল তা নিয়ে কখনো আফসোস করো না। কিন্তু তুমি তা-ই করছো। তোমাকে আর কোনো উপদেশ দেয়া অর্থহীন। কারণ অধিকাংশ মানুষের মতো তুমিও উপদেশ কান দিয়ে শুনেছো। কিন্তু তা থেকে শিক্ষা নাও নি। তোমার মতো বোকা ও লোভীদের কারণেই প্রতারকরা প্রতারণা করার সুযোগ পায়।

Read More »

রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৭

দূর্বলকে অবহেলা করা ঠিক না

এক গ্রামে অনেক গুলো সবল ছেলে পেলেদের মধ্যে একটি মাত্র দূর্বল ছেলে। তাই সবাই তাকে কিছুটা অবজ্ঞা করেই চলত। দূর্বল ছেলেটির খেলাধুলা কিংবা অন্য কোন কিছুতে অংশগ্রহন ছিল না বললেই চলে। গ্রামের ছেলে পেলেরা ছোট্ট একটা নদী অপর পারে পাহাড়ের কোলে মাঠের মত একটা জায়গায় খেলতে যেত। দূর্বল ছেলেটিও সংগে যেত, যদিও মাঠের একপাশে বসিয়ে রাখা হত তাকে। গাজ পালায় ঢেকে থাকা বনটিতে ভয়ংকর সব পশুর আনাগোনাও ছিল, যদিও দিনের বেলায় মাঠের দিকটা ছিল নিরাপদ। ঝড়ো আবহাওয়ার এক বিকেলে, সব ভয়কে উপেক্ষা করেই গ্রামের ছেলে পেলেরা রওয়ানা দিল খেলার মাঠের দিকে। বিকেল যতই গড়াতে লাগল ঝড়ের বেগও বাড়তে লাগল পাল্লা দিয়ে। ঝড় একসময় তীব্র রূপ ধারন করল। টনক নড়ল ছেলেগুলোর, দৌড়ে আশ্রয় নিল গূহার মত একটি জায়গায়। দূর্বল ছেলেটি আগে থেকেই ওখানে আশ্রয় নিয়েছিল।



 ঝড় তখন দানবীয় রূপে গাছপালা সব তছনছ করে ফেলছে। একটি গাছ শেকড়শহ উপড়ে এসে পড়ল গূহার মুখে। ঝড় কিছুটা কমে আসতেই ছেলেগুলা হাত লাগালো গাছটাকে সরানোর। কাজটি তাড়াতারি সাড়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল তারা। সাঝের ঘনিয়ে আসা অন্ধকারে ভয়ের মাত্রাটা বাড়তে লাগল তাদের, ভয়ংকর সব জানোয়ারের। গাছ ঠেলতে লাগল তারা সবাই মিলে, গাছ একটু নড়ে তা আবার নড়ে না। বার বার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হল তারা, শেষ পর্যন্ত মাটিতে হাতপা ছড়িয়ে বসে পড়ল সব হতাশ হয়ে পড়া ছেলেগুলা। বিশ্রাম নেয়ার পর, শেষ চেষ্টায় সব শক্তি লাগিয়ে আবার গাছিটিতে ঠেলা লাগাল তারা, একটু নড়ে থেমে পড়ল গাছটি আবার । "আমাকে তোমাদের সাথে চেষ্টা করতে দাও", দূর্বল ছেলেটি মৃদু শুরে বলল। সবাই তখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাজি হয়ে আবার গাছিটিকে ঠেলতে শুরু করল সবাই, এবার দূর্বল ছেলেটিসহ। একটু একটু নড়তে শুর করল গাছটা, তারপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে গাছটি গড়িয়ে পড়ল একপাশে একটুখানি, আর তাতে করেই গুহা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পেল ছেলেগুলো, একজন একজন করে। ওরপর থেকে দূর্বল ছেলেটিকে কেউ কখনো আর অবহেলা করেনি।
Read More »

রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৬

শেয়াল আর গরু

এক ব্যবসায়ী দুটি গরু নিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। পথিমধ্যে গরু দুটি একটা কাদার গর্তে পড়ে গেল এবং দুটি গরুর একটি মরে গেল আর বাকি গরুটা ভীষণভাবে আহত হলো। ব্যবসায়ীও তাকে ফেলে রেখে চলে গেল। আহত গরুটা অনেক চেষ্টা করে ওই কাদার গর্ত থেকে উঠে এলো। কাছেই ছিল তৃণবহুল  চমৎকার একটা লন। গরুটা সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিলো। কয়েকদিনের মধ্যে সে সুস্থ হয়ে গেল। সবুজ এবং তরতাজা ঘাস লতাপাতা খেয়ে বেশ নাদুসনুদুস হয়ে উঠলো এবং উচ্চস্বরে ‘হাম্বা’ ডাকতে শুরু করলো। এই হাম্বা ছিলো তার জীবন ফিরে পাবার আনন্দ সংগীত।

সবুজ তৃণবহুল লনটি ছিল একটা সিংহের বিচরণ ক্ষেত্র। সিংহ মানে ওই অঞ্চলের সকল প্রাণীর নেতা। পশু সিংহ এর আগে কখনোই তার বিচরণ ভূমিতে ‘হাম্বা’ ডাক শোনে নি। সে জন্য এই শব্দ শুনে সিংহের মনে ভয় ঢুকে গেল। কিন্তু কিছুই সে প্রকাশ করল না। সিংহের দরবারে দুটি শেয়াল বাস করত। একটির নাম কালিলা অপরটির নাম ছিল দিমনা। দিমনা ছিল বেশ লোভী এবং সুযোগ সন্ধানী। সে সারাক্ষণ সিংহের পাশে থাকতে চাইতো এবং চাইতো সিংহের উপদেষ্টার পদটি পেতে। সিংহ যে গরুর হাম্বা রব শুনে ভয় পেয়েছে এই শেয়ালটি মানে দিমনা তা টের পেয়ে গেল। দিমনা গরুর শব্দ শুনে বেরিয়ে গিয়ে গরুকেও দেখতে পেল।


সে গরুর সাথে আলাপ আলোচনা জমিয়ে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার চিন্তা করলো এবং তাই করলো। বন্ধু বানানোর পর দিমনা গরুকে নিয়ে সিংহের দরবারে হাজির হল। সিংহের ভয় এবং আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে শেয়াল সিংহের কাছে যাবার সুযোগ পেয়ে গেল। দিমনা সিংহের ভয়ের কারণ জানতে চাইলো। তারপর বললো এই সেই গরু যে নতুন এসেছে এই তৃণভূমিতে। ওর হাম্বা ডাক শুনেই তুমি ভয় পেয়েছিলে। তাই ওকে তোমার কাছে নিয়ে এলাম।

গরুকে সিংহের ভালোই লাগলো। সিংহ তাকে কাছে টেনে নিল এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন বিষয়ে তার সাথে পরামর্শ করে কাজ করতে লাগলো। কিন্তু এ বিষয়টা দিমনার মোটেই ভালো লাগলো না। সহ্য হচ্ছিল না তার। হিংসা জেগে উঠল তার মনের গহীনে। কারণটা হলো সে ভাবতো গরু বুঝি তার স্থানটা দখল করে নিলো। তাই সে ভেতরে ভেতরে গরুকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠলো। কিন্তু কী করে তা সম্ভব! শেয়াল অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলো কথায় বার্তায় সিংহের কাজে গরুকে অসহ্য করে তুলবে। গরুর বিরুদ্ধে এভাবে মারাত্মক ষড়যন্ত্র শুরু করে দিলো শেয়াল দিমনা। কিন্তু শেয়াল দিমনা কী বলবে তার বিরুদ্ধে। কিছুই তো বলার মতো খুঁজে পাচ্ছে না।

অবশেষে শেয়াল মিথ্যা অপবাদ দিতে শুরু করলো গরুর বিরুদ্ধে। প্রায়ই সিংহের কাছে বানিয়ে বানিয়ে গরুর বিরুদ্ধে নালিশ করতে লাগলো, অভিযোগ করতে লাগলো। মিথ্যা অভিযোগ করতে করতে এক সময় শেয়াল একেবারে প্রকাশ্যে এমনকি অনেক সময় গরুর সামনেই সিংহের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে শুরু করে দিলো। সিংহের কান ভারি হতে হতে একেবারে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল। সিংহের মনের ভেতর গরুর ব্যাপারে এক ধরনের নেতিবাচক চিন্তা জন্ম নিল। এতোই অসহ্য হয়ে পড়লো সিংহ যে একদিন সত্যি সত্যিই গরুকে মেরে ফেললো সে।

দিমনা তো ষড়যন্ত্র করে গরুটাকে মেরে ফেললো। কিন্তু দিমনার বন্ধু কালিলা শুরু থেকেই দিমনার ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে জানতো। সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না। দিমনার এ রকম হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছিল সে কিন্তু দিমনা সেসব কানেই তুলতো না।

এদিকে নিরীহ গরুটাকে মেরে সিংহ খুব অনুতাপ বোধ করলো। খুবই খারাপ লাগছিলো তার। কিন্তু দিমনা চেষ্টা করছিলো সিংহকে বোঝাতে যে সে যা করেছে ভুল করে নি ঠিকই করেছে। সিংহকে তার অনুতপ্ত অবস্থা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করলো দিমনা।

ইতোমধ্যে দিমনার বন্ধু কালিলা সে তো এমনিতেই দিমনার শত্রুতামূলক কাজকর্মের জন্যে ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিলো এবং দিমনাকে প্রায়ই তিরস্কার করতো এমনকি এইসব মন্দ কাজের পরিণতি যে মারাত্মক বিশেষ করে মিথ্যে কথা চালাচালি করে সিংহকে গরুর বিরুদ্ধে ক্ষেপীয়ে তোলা এবং গরুর বিরুদ্ধে ফেতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী উল্টাপাল্টা কথা লাগানোর কারণে একদিন যে তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে সে ব্যাপারেও দিমনাকে সবসময় বলতো। এক রাতে এইসব কথা বলাবলি করছিল কালিলা আর দিমনা।

ঘটনাক্রমে ওইরাতে একটা চিতাবাঘ কালিলা আর দিমনার কথাবার্তা ভালো করে শুনে ফেললো। তাড়াতাড়ি করে চিতাবাঘ সেইসব কথা সিংহের মায়ের কাছে গিয়ে বলে দিলো। সিংহের মা তো চিতাবাঘের কথা শুনে একেবারে তেলেবেগুনে ক্ষেপে গেল। সে অন্যায় একদম সহ্য করতে পারত না। গরুর ওপর যে অন্যায় করা হয়েছে সেটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না সিংহের মা। দেরি না করে সে তাই তার ছেলে সিংহের কাছে গেল। সিংহ তার মাকে দেখে খুশি হলো কিন্তু মায়ের চেহারায় বিষণ্ণতার ছাপ দেখে জানতে চাইলো ‘কী হয়েছে’। সিংহের মা তখন সমস্ত ঘটনা ছেলের কাছে খুলে বললো।

সিংহ প্রকৃত ঘটনা শুনে যার পর নাই উত্তেজিত হয়ে উঠলো। উপরন্তু মাও তাকে বললো এই ষড়যন্ত্রের প্রতিশোধ অবশ্যই নিতে হবে, শেয়াল দিমনাকে যথাযথ শাস্তি দিতে হবে। এমন শাস্তি দিতে হবে যাতে আর কেউ কখনো এ রকম ষড়যন্ত্র করার সাহস না পায়। গরুর রক্তমূল্য নিতেই হবে-এরকম কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে মা সিংহকে উদ্বুদ্ধ করলো। সিংহ উপায়ন্তর না দেখে একটা পরামর্শ বৈঠকের আয়োজন করলো। তার পরামর্শরা, দরবারের সভাসদরা, উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা- সকলেই ওই বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত হলো। দিমনার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হলো সেইসব অভিযোগের পক্ষে যথাযথ দলিল প্রমাণও হাজির করা হল।

চারদিক থেকে যখন দিমনার বিরুদ্ধে একের পর এক তার অন্যায়ের প্রমাণপঞ্জি পেশ করা হল, পশুরাজ সিংহ তখন বাধ্য হলো দিমনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিতে। দিমনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর কালিলা একবার দিমনার দিকে তাকালো। মনে মনে বললো আগেই বলেছিলাম.. এসব করো না। পাপের শাস্তি একদিন না একদিন ভোগ করতেই হবে, শুনলে না। দিমনাও কালিলার দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে থেকে মনে মনে কালিলার কথায় সায় দিলো।

অবশেষে দিমনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। কিন্তু গরু তো আর ফিরে পেল না তার প্রাণ।

Read More »

বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৬

ব্যাংক ডাকাতি

দুজন ব্যাংক-ডাকাত অস্ত্র হাতে ঢুকে পড়েছে একটা ব্যাংকে। তারা চিৎকার করে উঠল, ‘সবাই মাথা নিচু করে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। জীবন আপনার নিজের, টাকা হলো সরকারের।’

(এটাকে বলে, মাইন্ড চেঞ্জিং কনসেপ্ট। মানসিকতা পাল্টে দেওয়া ধারণা। প্রথাগত ধারণাকে পাল্টে দেওয়া।)

একজন মহিলা ভয়ে তার হাতের চুড়ি, গলার হার খুলতে লাগলেন। ডাকাতেরা বলল, আমরা ব্যাংক-ডাকাত। রাস্তার ছিনতাইকারী নই। গয়না নিজের কাছে রাখুন।

(এটাকে বলে, পেশাদারি। আপনি যে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত, শুধু সেটাই করবেন। সাহিত্যিকের উচিত নয় রোগীর জন্য প্রেসক্রিপশন লেখা।)

তারা ব্যাংকের টাকা লুট করে নিয়ে চলে গেল তাদের নিরাপদ ডেরায়। জুনিয়র ডাকাতটা ছিল এমবিএ পাস। সিনিয়র ডাকাতটা ছিল ম্যাট্রিক ফেল। জুনিয়র বলল, ‘বস, কত টাকা আনলাম, গুনে দেখি।’ সিনিয়র ডাকাত বলল, ‘এত টাকা গুনে শেষ করা যাবে নাকি। বরং টেলিভিশনের খবর দেখ। একটু পরে টেলিভিশনে লাইভ দেখাবে। তখনই জানা যাবে আমরা কত টাকা আনতে পেরেছি।

(এটাকে বলা হয় অভিজ্ঞতা। আজকাল অভিজ্ঞতার দাম নেই। সবাই শুধু এমবিএ খোঁজে) 

ডাকাতেরা চলে গেছে। ম্যানেজার তাঁর অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারকে বললেন, ‘পুলিশে খবর দাও।’ অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বললেন, ‘স্যার। ৫ কোটি টাকা আগে সরিয়ে রাখি। বলব, এই ৫ কোটি টাকাও ডাকাতে নিয়ে গেছে।’

(এটাকে বলা হয়, জোয়ারের পানিতে সাঁতার কাটা। কোনো একটা বিপদকে সম্পদে পরিণত করা)

অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বললেন, প্রতি মাসে একবার করে ব্যাংকে ডাকাতি হলে বেশ হতো।

(এটাকে বলা হয়, মূল্যবোধের অবক্ষয়। নৈতিকতা একবার ভেঙে গেলে তা বারবার ভেঙে ফেলা সহজ হয়ে যায়।)

  

একটু পরে টেলিভিশনে স্ক্রল দেখানো শুরু হলো, অমুক ব্যাংকের অমুক শাখা থেকে ২০ কোটি টাকা ডাকাতি হয়ে গেছে। ডাকাত দুজন তখন টাকা গুনতে শুরু করল। গুনে দেখল, তাদের বস্তায় আছে মাত্র ৫ কোটি টাকা। তখন বড় ডাকাত ছোট ডাকাতকে বলল, ‘হারামজাদা ব্যাংক ম্যানেজাররা তো আমাদের চেয়েও বড় ডাকাত। আমরা কত কষ্ট করে ডাকাতি করা শিখেছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডাকাতি করতে হয়। কত কষ্ট করে ডাকাতি করে আমরা পেলাম ৫ কোটি। আর কিনা ওরা এক মুহূর্তে ১৫ কোটি টাকা ইনকাম করল!’ ছোটটা বলল, এত কষ্ট করে চুরি-ডাকাতি না করে আপনি ব্যাংক-ম্যানেজার হলেই পারতেন।

(এটাকে বলা হয়, পেন ইজ মাইটার দেন সোর্ড। তরবারির চেয়ে কলমের শক্তি বেশি।)

ম্যানেজার তাঁর অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারকে বললেন, ডাকাতে নিল ৫ কোটি। আমরা সরালাম ৫ কোটি। কিন্তু টেলিভিশনগুলো ২০ কোটি বলছে কেন? এই ১০ কোটি কে মারল?

(এটাকে বলা হয়, সরকারকে মাল দরিয়া মে ঢাল)

কিছুদিনের মধ্যেই তদন্ত শুরু হলো। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অবিলম্বে ডাকাত দুজনকে ধরে ফেলা হলো।

(অপরাধী কোনো না কোনো ক্লু রেখেই যায়।)

তাদের রিমান্ডে নেওয়া হলো। সব ধরনের কৌশল প্রয়োগ করে এই পর্যন্ত জানা গেল যে তারা ৫ কোটি টাকা নিয়েছে। তাহলে বাকি টাকা কে নিল! এইবার ধরা হলো ম্যানেজার আর অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারকে। তাঁরা ৫ কোটি টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেন। কিন্তু হিসাব তো মিলছে না। ডিম সেদ্ধ করা হলো।

(এটাকে বলা হয়, যা তুমি হজম করতে পারবে না, তা তুমি গিলতে যেয়ো না।)

সাংবাদিকেরা ধরলেন অর্থমন্ত্রীকে। লুট হয়েছে ২০ কোটি টাকা। পুলিশ উদ্ধার করেছে মাত্র ১ কোটি টাকা। বাকি ১৯ কোটি টাকা কই? অর্থমন্ত্রী বললেন, আমরা ২০০ কোটি টাকা শুধু আতশবাজিতে খরচ করি। ১৯ কোটি টাকা কই, এটা হিসাব করার টাইম কি আমাদের আছে? আমাদের সময়ের কি কোনো দাম নেই? ২ হাজার কোটি টাকাই আমাদের জন্য কোনো টাকা না। আপনি এসেছেন ১৯ কোটি টাকার হিসাব চাইতে। রাবিশ!

ছোট ডাকাত বলল বড় ডাকাতকে, আমাদের কাছ থেকে পুলিশ উদ্ধার করল ৫ কোটি। কিন্তু খবরের কাগজে কেন লিখেছে, উদ্ধার করা হয়েছে ১ কোটি? বাকি ৪ কোটি কে মারল?

(এ বিষয়ে শেক্‌সপিয়ার বলেছেন, দেয়ার আর মোর থিংস ইন দ্য হেভেন অ্যান্ড আর্থ।)

ডাকাতেরা বলল, সংবাদপত্র মিথ্যা লেখে। ম্যানেজার দুজন বললেন, সংবাদমাধ্যম মিথ্যা বলে। তথ্যমন্ত্রী বললেন, সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। স্বাধীনতা মানে দায়িত্ব। আমরা সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিয়েছি। স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়।

সংবাদমাধ্যমকে অবশ্যই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। তারা অবশ্যই সমালোচনা করবে। কিন্তু সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক। কিছুদিনের মধ্যেই গণমাধ্যম সেই ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ভুলে গেল।

Read More »