সূর্যাস্তটা অসাধারণ লাগছে এখান থেকে দেখতে ।
সেদিকে হা করে তাকিয়ে থাকে জাফর । ওর চেহারার অবস্থা দেখে হেসে ফেলে তৃপ্তি ।
এবার তৃপ্তির সুন্দর হাসিমুখটার দিকে একই ভাবে তাকায় জাফর ।
সেদিকে হা করে তাকিয়ে থাকে জাফর । ওর চেহারার অবস্থা দেখে হেসে ফেলে তৃপ্তি ।
এবার তৃপ্তির সুন্দর হাসিমুখটার দিকে একই ভাবে তাকায় জাফর ।
‘জীবনে সূর্যাস্ত দেখেন নি ?’ হাসির আভা মুখে ধরেই বলে তৃপ্তি ।
একটু হেসে চেহারা স্বাভাবিক করে জাফর ।
‘সূর্যাস্ত ঠিক দেখার জিনিস না । ওটাকে খেয়ে ফেলতে হয় । তাই সূর্য খাচ্ছিলাম ।’
একটু হেসে চেহারা স্বাভাবিক করে জাফর ।
‘সূর্যাস্ত ঠিক দেখার জিনিস না । ওটাকে খেয়ে ফেলতে হয় । তাই সূর্য খাচ্ছিলাম ।’
জাফরের কথায় মেয়েটা হেসে কুটিকুটি হয় ।
অথচ ওদের পরিচয় মাত্র চার ঘন্টার । সকালে শহীদ মিনারে গিয়েছিল আর দুপুরে তৃপ্তির সাথে দেখা ।
অনলাইন ম্যাগাজিনে লেখালেখি করে জাফর । পরে একক বইও বের করেছে । মাসিক ম্যাগাজিনগুলোও জাফরের লেখা পেলেই লুফে নেয় । তৃপ্তি মেয়েটা জাফরের ফ্যান হয়েছে ওখান থেকেই । ঠিক ফ্যান বলা উচিত না । এসি ।
জাফরকে বহু কষ্টে ফেসবুকে খুঁজে পেতে আর দেরী করে নি । দেখা করার জন্য আবদার করে বসেছে ।
অথচ ওদের পরিচয় মাত্র চার ঘন্টার । সকালে শহীদ মিনারে গিয়েছিল আর দুপুরে তৃপ্তির সাথে দেখা ।
অনলাইন ম্যাগাজিনে লেখালেখি করে জাফর । পরে একক বইও বের করেছে । মাসিক ম্যাগাজিনগুলোও জাফরের লেখা পেলেই লুফে নেয় । তৃপ্তি মেয়েটা জাফরের ফ্যান হয়েছে ওখান থেকেই । ঠিক ফ্যান বলা উচিত না । এসি ।
জাফরকে বহু কষ্টে ফেসবুকে খুঁজে পেতে আর দেরী করে নি । দেখা করার জন্য আবদার করে বসেছে ।
কি মনে হতে যেন জাফর এই মেয়েটাকে ফিরিয়ে দেয় না বাকি সবার মত । দেখা করতে এসেছে ও আজকে ।
‘চলুন, একটু হাঁটি ।’ আলতো করে বলে মেয়েটা ।
‘হুঁ ।’ দুই হাত পকেটে রেখে মেয়েটার পাশে পাশে হাঁটে জাফর ।
‘চলুন, একটু হাঁটি ।’ আলতো করে বলে মেয়েটা ।
‘হুঁ ।’ দুই হাত পকেটে রেখে মেয়েটার পাশে পাশে হাঁটে জাফর ।
তৃপ্তি একেবারেই হঠাৎ জাফরের ডান হাত জড়িয়ে ধরে । জাফরের মাঝে অবশ্য এতে কোন ভাবান্তর হয় না ।
নদীর ধারে আজ অনেকেই এসেছে । ছুটির দিন আজ । একুশে ফেব্রুয়ারী ।
নদীর ধারে আজ অনেকেই এসেছে । ছুটির দিন আজ । একুশে ফেব্রুয়ারী ।
‘আপনার লেখাতে এত মানুষ মারেন কেন ?’ মেয়েটার প্রশ্নে ঘোর থেকে বেরিয়ে আসে জাফর ।
‘কি জানি । চরিত্রদের যেখানে মরা লাগবে সেখানে আমি নগন্য জাফর আর কি করতে পারি বলুন ?’ রহস্যময় একটা কন্ঠ করে বলে লেখক ।
‘কি খারাপ ! নিজের দোষ এখন চরিত্রদের ঘাড়ে – তাই না ?’ আদুরে গলা দিয়ে রহস্যময় কন্ঠের প্রতিবাদ জানায় তৃপ্তি ।
একটু হাসে শুধু জাফর ।
‘কি জানি । চরিত্রদের যেখানে মরা লাগবে সেখানে আমি নগন্য জাফর আর কি করতে পারি বলুন ?’ রহস্যময় একটা কন্ঠ করে বলে লেখক ।
‘কি খারাপ ! নিজের দোষ এখন চরিত্রদের ঘাড়ে – তাই না ?’ আদুরে গলা দিয়ে রহস্যময় কন্ঠের প্রতিবাদ জানায় তৃপ্তি ।
একটু হাসে শুধু জাফর ।
কানা ফকিরটা কোথা থেকে এসে তৃপ্তির ফতুয়া ধরে খনখনে গলায় বলে, ‘টাকা দে রে মা । ভালো হবে তোর ।’
ফকিরটা চেহারা দেখেই আৎকে ওঠে তৃপ্তি । তেলাপোকাদর্শনের পর নারীকুল যেভাবে চিৎকার ছাড়ে সেভাবেই একটা হাঁক দেয় ও অজানা কারও উদ্দেশ্যে, তারপর কড়া গলাতে বলে, ‘জামা ছাড়ুন ! যত্তসব ফালতু মানুষ !’
জাফর অবশ্য ওয়ালেট বের করে ফেলেছে । কানাটার হাতে একটা পঞ্চাশ টাকার নোট গুঁজে দিতেই অভিভূত হয়ে পড়ে ফকিরটা ।
‘বাবা, দোয়া চা । দোয়া চা ।’
‘সফল হতে পারি যেন ।’ বলে জাফর ।
ফকিরটা চেহারা দেখেই আৎকে ওঠে তৃপ্তি । তেলাপোকাদর্শনের পর নারীকুল যেভাবে চিৎকার ছাড়ে সেভাবেই একটা হাঁক দেয় ও অজানা কারও উদ্দেশ্যে, তারপর কড়া গলাতে বলে, ‘জামা ছাড়ুন ! যত্তসব ফালতু মানুষ !’
জাফর অবশ্য ওয়ালেট বের করে ফেলেছে । কানাটার হাতে একটা পঞ্চাশ টাকার নোট গুঁজে দিতেই অভিভূত হয়ে পড়ে ফকিরটা ।
‘বাবা, দোয়া চা । দোয়া চা ।’
‘সফল হতে পারি যেন ।’ বলে জাফর ।
তৃপ্তি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে । লেখক মানুষরা আধ্যাত্মিক ব্যাপারে বিশ্বাস করে না বলেই জানত ও । দেখা যাচ্ছে জানায় ভুল ছিল !
ওরা আবার হাঁটে একজোড়া সুখী পায়রার মত । অথবা একটি সুখী পায়রা ।
জাফরের মাথায় চিন্তার ভীড় জমেছে ।
ওরা আবার হাঁটে একজোড়া সুখী পায়রার মত । অথবা একটি সুখী পায়রা ।
জাফরের মাথায় চিন্তার ভীড় জমেছে ।
বেশ পেছনের মেয়েটা অনেকক্ষণ ধরেই ওদের ফলো করছে । ব্যাপারটা তৃপ্তিকে বলে ভয় পাইয়ে দিতে চায় নি জাফর ।
এই মেয়ে ওদের পেছনে পেছনে ঘুরছে কেন ?
জাফর বেশ খ্যাতি পেয়েছে মাত্র দুই বইমেলাতেই । ওর লেখা থ্রিলার ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের আর কোন লেখককে । সমসাময়িক তো বটেই – পূর্বসূরীদেরও । কাজেই ভক্ত-নারীভক্তের অভাব নেই ।
ফেসবুকেও জাফর বেশ অ্যাকটিভ । কাজেই ওর চেহারা বাংলাদেশের অনেকেই চেনে । তাদের কেউ কাছে এসে অটোগ্রাফ চায় । আবার যাদের সে সাহস হয় না জাফর বিরক্ত হবে ভেবে তারা দূর থেকে কিছুক্ষণ ফলো করে চলে যায় ।
জাফর এসব অনুভূতি বেশ উপভোগই করে । মাঝে মাঝে বিরক্ত হয় না – তাও না ।
কিন্তু এই মেয়ের ফলো করার ধরণটা ভালো লাগছে না জাফরের ।
এই মেয়ে ওদের পেছনে পেছনে ঘুরছে কেন ?
জাফর বেশ খ্যাতি পেয়েছে মাত্র দুই বইমেলাতেই । ওর লেখা থ্রিলার ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের আর কোন লেখককে । সমসাময়িক তো বটেই – পূর্বসূরীদেরও । কাজেই ভক্ত-নারীভক্তের অভাব নেই ।
ফেসবুকেও জাফর বেশ অ্যাকটিভ । কাজেই ওর চেহারা বাংলাদেশের অনেকেই চেনে । তাদের কেউ কাছে এসে অটোগ্রাফ চায় । আবার যাদের সে সাহস হয় না জাফর বিরক্ত হবে ভেবে তারা দূর থেকে কিছুক্ষণ ফলো করে চলে যায় ।
জাফর এসব অনুভূতি বেশ উপভোগই করে । মাঝে মাঝে বিরক্ত হয় না – তাও না ।
কিন্তু এই মেয়ের ফলো করার ধরণটা ভালো লাগছে না জাফরের ।
গত বছর একুশে ফেব্রুয়ারীতে মিথিলা খুন হয়েছিল রহস্যজনকভাবে ।
একটা বছর মাথা ঘামিয়েছে জাফর – কিন্তু বের করতে পারে নি সেই রহস্য । আজ আবার একুশে ফেব্রুয়ারীতে একটা মেয়েকে ফলো করতে দেখলে একটামাত্র চিন্তাই আসা স্বাভাবিক – তৃপ্তি কি নিরাপদ ?
মিথিলাকে খুন করেছিল যে – সে কি এই মেয়েটাই ? জেলাস ?
একটা বছর মাথা ঘামিয়েছে জাফর – কিন্তু বের করতে পারে নি সেই রহস্য । আজ আবার একুশে ফেব্রুয়ারীতে একটা মেয়েকে ফলো করতে দেখলে একটামাত্র চিন্তাই আসা স্বাভাবিক – তৃপ্তি কি নিরাপদ ?
মিথিলাকে খুন করেছিল যে – সে কি এই মেয়েটাই ? জেলাস ?
তৃপ্তি কি কি জানি বকে চলেছে । ওর কথার দিকে মনোযোগ দেয় না জাফর । একটা সিগারেট ধরায় ।
আড়চোখে তাকিয়ে দেখে বেশ পেছনে আনমনে সূর্য দেখতে থাকার অভিনয় করা মেয়েটাও ব্যাগ থেকে একটা সিগারেট বের করে ।
ভুল ভাবছে জাফর ? শুধুই ফ্যান ?
তাহলে ওর চোখের দৃষ্টিটাকে সুবিধের লাগছে না কেন ওর ?
আড়চোখে তাকিয়ে দেখে বেশ পেছনে আনমনে সূর্য দেখতে থাকার অভিনয় করা মেয়েটাও ব্যাগ থেকে একটা সিগারেট বের করে ।
ভুল ভাবছে জাফর ? শুধুই ফ্যান ?
তাহলে ওর চোখের দৃষ্টিটাকে সুবিধের লাগছে না কেন ওর ?
‘ওহ মাই গড ! জাফর আহমেদ ! হি হিমসেলফ ! আই কান্ট বিলিভ মাই আইজ !’ চিল চিৎকারে ফিরে তাকায় জাফর ।
কিশোরী একটা মেয়ে ।
একহারা গড়ন । ফুলের মত চেহারা । এই মুহূর্তে ফুলটা বিস্ময়াভূত ।
‘আমি আপনার প্রতিটা লেখা পড়ি, জানেন ! ফেসবুকে, ব্লগে আর আপনার লেখা যে ম্যাগাজিনগুলো বের করে -’
কিশোরী একটা মেয়ে ।
একহারা গড়ন । ফুলের মত চেহারা । এই মুহূর্তে ফুলটা বিস্ময়াভূত ।
‘আমি আপনার প্রতিটা লেখা পড়ি, জানেন ! ফেসবুকে, ব্লগে আর আপনার লেখা যে ম্যাগাজিনগুলো বের করে -’
তৃপ্তির চেহারা দেখে মনে হচ্ছে পারলে এই মেয়েটাকে কাঁচাই খেয়ে ফেলে !
তবে জাফর একটু হাসল শুধু । বিনয়ের হাসি ।
‘অতটা ভালোও কিন্তু লেখি না ।’ কোমল গলায় বলে ও তরুণীকে ।
‘ইশ ! আমি যদি আপনার মত ‘অতটা ভালো না’ গল্প লেখতে পারতাম !’ অবাক চোখে তাকিয়ে বলে কিশোরী, ‘আমাকে একটা অটোগ্রাফ দেবেন ? আমি অনীতা !’
তবে জাফর একটু হাসল শুধু । বিনয়ের হাসি ।
‘অতটা ভালোও কিন্তু লেখি না ।’ কোমল গলায় বলে ও তরুণীকে ।
‘ইশ ! আমি যদি আপনার মত ‘অতটা ভালো না’ গল্প লেখতে পারতাম !’ অবাক চোখে তাকিয়ে বলে কিশোরী, ‘আমাকে একটা অটোগ্রাফ দেবেন ? আমি অনীতা !’
ঝটপট একটা কলম ধরিয়ে দেয় ও জাফরকে ।
কিন্তু কাগজ কোথায় ?
কিশোরী শুধু নিজের জামার গলার নিচের অনাবৃত ফর্সা চামড়া দেখায় আঙ্গুলের ইশারায় । চোখে দুষ্টু হাসি ।
কলমের আলতো স্পর্শে একটা অটোগ্রাফ দিতেই হয় জাফরকে ।
কিন্তু কাগজ কোথায় ?
কিশোরী শুধু নিজের জামার গলার নিচের অনাবৃত ফর্সা চামড়া দেখায় আঙ্গুলের ইশারায় । চোখে দুষ্টু হাসি ।
কলমের আলতো স্পর্শে একটা অটোগ্রাফ দিতেই হয় জাফরকে ।
অনীতা খুশিমনে চলে যাচ্ছে । চলে যাচ্ছে আর ফিরে ফিরে তাকাচ্ছে জাফরের দিকে ।
কিন্তু জাফর ওদিকে তাকায় না আর ।
সিগারেট ফেলে দিয়ে পেছনের দিকে দৃষ্টি পড়তেই অবাক হয়ে যায় ও ।
কিন্তু জাফর ওদিকে তাকায় না আর ।
সিগারেট ফেলে দিয়ে পেছনের দিকে দৃষ্টি পড়তেই অবাক হয়ে যায় ও ।
সিগারেট ধরানো মেয়েটা নেই পেছনে কোথাও !
জাফরের বাসাতে ঢুকে নিজের ব্যাগটা আছড়ে ফেলে তৃপ্তি আরামদায়ক সোফাটার ওপর ।
মেয়েটার মেজাজ খারাপ জানে জাফর । শহরের বাইরে থেকে শুধু জাফরের সাথে দেখা করতেই এসেছিল ও – আজ রাত দশটাতে বাস ।
এখনও দুই ঘন্টা আছে । কাজেই সময়টুকু নিজের বাসাতেই নিয়ে এসেছে ও ।
তৃপ্তির রাগ উঠছে অন্য কারণে ।
জাফরকে ভালোবাসে ও । তবে নিজেও জানে এই ভালোবাসা একতরফা । জাফর সারাটা দিন একসাথে থাকলেও ভক্ত অথবা বন্ধুর সাথে যেভাবে কথা বলা উচিত তার বেশি বলে নি কিছুই । লেখক হলেও মানুষটা একেবারে নিপাট ভদ্রলোক ।
কিন্তু নদীর পাড় থেকে বাসা পর্যন্ত মাত্র আধ ঘন্টার দূরত্বে ছয়টা মেয়ে এসে অটোগ্রাফ নিয়ে গেছে রাস্তায় । তাও শরীরের বিভিন্ন স্থানে !
অসহ্যরকম বিরক্ত হয় তৃপ্তি । ছেলেটাকে যেন লুটে নেবে !
দেখতে পায় না ওর পাশে তৃপ্তি ছিল ?
জাফরকে ভালোবাসে ও । তবে নিজেও জানে এই ভালোবাসা একতরফা । জাফর সারাটা দিন একসাথে থাকলেও ভক্ত অথবা বন্ধুর সাথে যেভাবে কথা বলা উচিত তার বেশি বলে নি কিছুই । লেখক হলেও মানুষটা একেবারে নিপাট ভদ্রলোক ।
কিন্তু নদীর পাড় থেকে বাসা পর্যন্ত মাত্র আধ ঘন্টার দূরত্বে ছয়টা মেয়ে এসে অটোগ্রাফ নিয়ে গেছে রাস্তায় । তাও শরীরের বিভিন্ন স্থানে !
অসহ্যরকম বিরক্ত হয় তৃপ্তি । ছেলেটাকে যেন লুটে নেবে !
দেখতে পায় না ওর পাশে তৃপ্তি ছিল ?
বুকে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে তৃপ্তি ।
রাগের জন্য বুঝতে পারে নি – হঠাৎই খেয়াল করে জাফর নেই আশেপাশে । গেল কোথায় ছেলেটা ?
অতিথিকে বাসাতে ঢুকিয়েই নিরুদ্দেশ হয়ে যেতে হয় নাকি ?
রাগের জন্য বুঝতে পারে নি – হঠাৎই খেয়াল করে জাফর নেই আশেপাশে । গেল কোথায় ছেলেটা ?
অতিথিকে বাসাতে ঢুকিয়েই নিরুদ্দেশ হয়ে যেতে হয় নাকি ?
‘জাফর ?’ আস্তে করে ডাকে তৃপ্তি ।
ওর কথার জবাবেই যেন বাসাটার প্রতিটা লাইট নিভে গেল !
ঘুটঘুটে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পায়ের নিচে অসীম শূন্যতা অনুভব করে তৃপ্তি ।
ওর কথার জবাবেই যেন বাসাটার প্রতিটা লাইট নিভে গেল !
ঘুটঘুটে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পায়ের নিচে অসীম শূন্যতা অনুভব করে তৃপ্তি ।
বুনো জন্তুর মত ফোঁস ফোঁস শব্দ হচ্ছে এই ঘরেই । আত্মা কেঁপে ওঠে তৃপ্তির ।
তবুও গলা শান্ত রাখার চেষ্টা করে বলে, ‘জাফর ? কোথায় আপনি ? মজা করাটা কি ঠিক হচ্ছে ?’
জবাবে কেউ ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে । পুরুষালী একজোড়া হাতের শক্তির কাছে হার মানে তৃপ্তি ।
জাফর কি অন্ধকারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওর কাছ থেকে কিছু আদায় করে নিতে চাচ্ছে ?
ক্লিক জাতীয় একটা শব্দের সাথে দুইহাতে ধাতব স্পর্শ পেতেই ভয়টা ফিরে আসে তৃপ্তির মনে । জাফর ওর হাতে হ্যান্ডকাফ পড়াচ্ছে কেন ? বিকৃত যৌনাচারী ? পরক্ষণেই আরেকটা চিন্তা ওকে আচ্ছন্ন করে ফেলে ।
তবুও গলা শান্ত রাখার চেষ্টা করে বলে, ‘জাফর ? কোথায় আপনি ? মজা করাটা কি ঠিক হচ্ছে ?’
জবাবে কেউ ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে । পুরুষালী একজোড়া হাতের শক্তির কাছে হার মানে তৃপ্তি ।
জাফর কি অন্ধকারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওর কাছ থেকে কিছু আদায় করে নিতে চাচ্ছে ?
ক্লিক জাতীয় একটা শব্দের সাথে দুইহাতে ধাতব স্পর্শ পেতেই ভয়টা ফিরে আসে তৃপ্তির মনে । জাফর ওর হাতে হ্যান্ডকাফ পড়াচ্ছে কেন ? বিকৃত যৌনাচারী ? পরক্ষণেই আরেকটা চিন্তা ওকে আচ্ছন্ন করে ফেলে ।
লেখক জাফরকে সে কতটুকু চেনে মানুষ হিসেবে ?
গত বছর লেখক জাফরের বাসার কাছ থেকে মিথিলা নামের যে মেয়েটার লাশ উদ্ধার করা হয় সে ব্যাপারে ভোলে নি তৃপ্তি ।
প্রথম বইটা বের হয়ে গেছে – আর সেটা মাত্রাতিরিক্ত হিট । গোটা বাংলাদেশ জাফরের সাপোর্টে ছিল তখন । পুলিশ বাহিনীকে একেবারে হেনস্থা করে ছেড়েছিল জনতা মানী লোকের মানহানির চেষ্টা করায় ।
ওরা কি ভুল করেছিল ? খুনটা জাফরই করে নি তো ?
প্রথম বইটা বের হয়ে গেছে – আর সেটা মাত্রাতিরিক্ত হিট । গোটা বাংলাদেশ জাফরের সাপোর্টে ছিল তখন । পুলিশ বাহিনীকে একেবারে হেনস্থা করে ছেড়েছিল জনতা মানী লোকের মানহানির চেষ্টা করায় ।
ওরা কি ভুল করেছিল ? খুনটা জাফরই করে নি তো ?
হাঁটুর নিচে একটা হাত চলে যায় তৃপ্তির । পাঁজাকোলা করে ওকে উঠিয়ে নিচ্ছে জাফর ।
হ্যান্ডকাফ পড়া তৃপ্তি আজ বাঁধা দেওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে ।
অবসন্ন ভঙ্গীতে ও এলিয়ে পড়ে জাফরের দুই বাহুর মাঝে ।
হ্যান্ডকাফ পড়া তৃপ্তি আজ বাঁধা দেওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে ।
অবসন্ন ভঙ্গীতে ও এলিয়ে পড়ে জাফরের দুই বাহুর মাঝে ।
*
চোখ ধাঁধানো তীব্র আলো চারপাশে ।
চোখ কুঁচকে তাকায় তৃপ্তি সামনে । একটা সিরিঞ্জের সুচের ফুটো – তারপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলা – এটুকুই ছিল ওর শেষ স্মৃতি । তবে সবই ছিল অন্ধকারে ।
চোখ ধাঁধানো তীব্র আলো চারপাশে ।
চোখ কুঁচকে তাকায় তৃপ্তি সামনে । একটা সিরিঞ্জের সুচের ফুটো – তারপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলা – এটুকুই ছিল ওর শেষ স্মৃতি । তবে সবই ছিল অন্ধকারে ।
এখন সামনে আলোতে হেঁটে বেড়াচ্ছে একজন মানুষ ।
চোখ কয়েকবার পিট পিট করে তৃপ্তি বোঝে জাফরই সেটা । তবে পরক্ষণেই নিজের অবস্থার প্রতি সচেতন হয় ।
চোখ কয়েকবার পিট পিট করে তৃপ্তি বোঝে জাফরই সেটা । তবে পরক্ষণেই নিজের অবস্থার প্রতি সচেতন হয় ।
ঘরের মাঝখানে প্রায় ঝুলে আছে ও ।
হাত দুটো ওপরে সিলিং থেকে ঝোলানো দড়িতে এভাবে বাঁধা যাতে হাত নামানোর কোন উপায় ওর নেই ।
পায়ের কাছেও দুটো আংটার সাথে শক্ত নাইলনের দড়ি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে ওকে ।
হাত দুটো ওপরে সিলিং থেকে ঝোলানো দড়িতে এভাবে বাঁধা যাতে হাত নামানোর কোন উপায় ওর নেই ।
পায়ের কাছেও দুটো আংটার সাথে শক্ত নাইলনের দড়ি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে ওকে ।
‘জাফর, কি হচ্ছে এসব ?’
ফিরেও তাকায় না বিখ্যাত লেখক এই প্রশ্নে ।
‘জাফর ?’
এবার তাকায় অবশ্য । এগিয়ে আসে সামনে ।
‘আমাকে বলছেন ?’ বিনম্র কন্ঠের আগের জাফরকে ফিরে পেতে ভয় কিছুটা কমে তৃপ্তির ।
‘কি করছেন আপনি ? আমাকে নামান । জাফর, প্লিজ !’
‘কিন্তু ...’ একমুহূর্ত দ্বিধাগ্রস্থ দেখায় ওকে, ‘আমার নাম তো জাফর নয় !’
ফিরেও তাকায় না বিখ্যাত লেখক এই প্রশ্নে ।
‘জাফর ?’
এবার তাকায় অবশ্য । এগিয়ে আসে সামনে ।
‘আমাকে বলছেন ?’ বিনম্র কন্ঠের আগের জাফরকে ফিরে পেতে ভয় কিছুটা কমে তৃপ্তির ।
‘কি করছেন আপনি ? আমাকে নামান । জাফর, প্লিজ !’
‘কিন্তু ...’ একমুহূর্ত দ্বিধাগ্রস্থ দেখায় ওকে, ‘আমার নাম তো জাফর নয় !’
চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে তৃপ্তি ।
‘আমি মারুফ । মারুফ হায়দার । আমাকে জাফর কেন বলছেন ?’ প্রশ্ন করে যায় জাফর ।
তৃপ্তি এখনও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে । এই মানুষটার ফেসবুক আইডি ‘জাফর আহমেদ’ । ব্লগে লেখে একই নামে । ম্যাগাজিনে তার লেখা বের হয় একই নামে । বই বের হয়েছেও জাফর আহমেদ নামে । তাহলে নিজের নাম কেন মারুফ হায়দার বলবে এখন ?
ঢোক গেলে তৃপ্তি । জাফরের মাথায় তাহলে সমস্যা আছে । লেখক মানুষ । একটু আধটু সমস্যা থাকতেই পারে ।
কিন্তু মিথিলার খুনী এর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি । তৃপ্তির বড় বড় চোখে ফুটে ওঠে ভয় । ওকে কথা বলিয়ে সময় নষ্ট করাতে হবে !
‘আমাকে কোথায় এনেছেন ?’ জানতে চায় তৃপ্তি ।
‘ও । এটা জানতে চান ? আমার বাসার বেজমেন্টে একটা গোপন ঘর আছে । সেখানেই আনলাম আপনাকে ।’ নম্র গলাতেই বলছে জাফর । স্বস্তি পাবে তৃপ্তি এতে – নাকি ভয় পাবে – বুঝে ওঠে না ও ।
‘আমাকে বাঁধন কেটে নামাবেন ? লাগছে খুব ।’ অনুনয় করে তৃপ্তি ।
‘নামানো তো যাবে না আপনাকে ।’
কিন্তু মিথিলার খুনী এর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি । তৃপ্তির বড় বড় চোখে ফুটে ওঠে ভয় । ওকে কথা বলিয়ে সময় নষ্ট করাতে হবে !
‘আমাকে কোথায় এনেছেন ?’ জানতে চায় তৃপ্তি ।
‘ও । এটা জানতে চান ? আমার বাসার বেজমেন্টে একটা গোপন ঘর আছে । সেখানেই আনলাম আপনাকে ।’ নম্র গলাতেই বলছে জাফর । স্বস্তি পাবে তৃপ্তি এতে – নাকি ভয় পাবে – বুঝে ওঠে না ও ।
‘আমাকে বাঁধন কেটে নামাবেন ? লাগছে খুব ।’ অনুনয় করে তৃপ্তি ।
‘নামানো তো যাবে না আপনাকে ।’
একেবারেই হঠাৎ ভয়ের সাগরে ডুবে যায় তৃপ্তি – জাফরের চোখের দিকে চোখ পড়োতেই । কি ঠান্ডা মাথাতেই না আছে লোকটা । সামনে একটা মেয়েকে হাত বেঁধে প্রায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে – এই দৃশ্যে ওর চেহারাতে কোন ভাবই ফুটে ওঠে না !
‘কি করবেন আমাকে নিয়ে ? ধর্ষণ করতে চান ?’
‘ধর্ষণ ? না । কি যে বলেন ? ছি ছি ।’ লজ্জা পেয়ে যায় জাফর ।
একটুও নিশ্চিন্ত হতে পারে না তৃপ্তি তবুও ।
‘ধর্ষণ ? না । কি যে বলেন ? ছি ছি ।’ লজ্জা পেয়ে যায় জাফর ।
একটুও নিশ্চিন্ত হতে পারে না তৃপ্তি তবুও ।
জাফর ওর পেছনে চলে যাচ্ছে ।
ঘাড় ঘুরিয়ে যা দেখে তৃপ্তি – ওর হৃৎপিন্ডের গতি বেড়ে যায় তিনগুণ !
পেছনদিকের দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে একটা টেবিল । তাতে সুন্দর করে সাজানো আছে ছুরির এক বিশাল কালেকশন । সেই সাথে তৃপ্তির নাম না জানা বেশ কিছু অস্ত্র ।
ঘাড় ঘুরিয়ে যা দেখে তৃপ্তি – ওর হৃৎপিন্ডের গতি বেড়ে যায় তিনগুণ !
পেছনদিকের দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে একটা টেবিল । তাতে সুন্দর করে সাজানো আছে ছুরির এক বিশাল কালেকশন । সেই সাথে তৃপ্তির নাম না জানা বেশ কিছু অস্ত্র ।
জাফর গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে এগিয়ে যাচ্ছে ওদিকে । একটা করে ছুরি তুলে নেয় আর নামায় ।
গানটা পরিচিত । ‘আমি বাংলায় গান গাই’ – এবং বাংলাতেই গাইছে জাফর ।
তৃপ্তি নিজের গাল বেয়ে গরম পানির অস্তিত্ব অনুভব করে । মুখে পড়তে নোনতা একটা স্বাদও পায় ও ।
কাঁদছে মেয়েটা ।
গানটা পরিচিত । ‘আমি বাংলায় গান গাই’ – এবং বাংলাতেই গাইছে জাফর ।
তৃপ্তি নিজের গাল বেয়ে গরম পানির অস্তিত্ব অনুভব করে । মুখে পড়তে নোনতা একটা স্বাদও পায় ও ।
কাঁদছে মেয়েটা ।
নিজের অসহায়ত্ব ছাপিয়ে যখন আবারও মুখ খোলে মেয়েটা – গলাটা ওর ভেঙ্গে গেছে ।
‘আমার কি দোষ ? আমার কি দোষ বলুন ?’
ছুরি দিয়ে তৃপ্তির চমৎকার আকাশী রঙের ফতুয়াটা পিঠ বরাবর কেটে দেয় জাফর । তারপর মুখ খোলে ।
‘ফেসবুকে তোমার স্ট্যাটাস আমি পড়েছি ।’
‘আপনি মানে কে ? জাফর আহমেদ না মারুফ রায়হান ?’
‘দুইজনই ।’ কথার ফাঁকে বক্ষাবরণীর পেছনের বাঁধন কেটে ফেলে জাফর ।
শিওরে ওঠে তৃপ্তি ।
‘আমার কি দোষ ? আমার কি দোষ বলুন ?’
ছুরি দিয়ে তৃপ্তির চমৎকার আকাশী রঙের ফতুয়াটা পিঠ বরাবর কেটে দেয় জাফর । তারপর মুখ খোলে ।
‘ফেসবুকে তোমার স্ট্যাটাস আমি পড়েছি ।’
‘আপনি মানে কে ? জাফর আহমেদ না মারুফ রায়হান ?’
‘দুইজনই ।’ কথার ফাঁকে বক্ষাবরণীর পেছনের বাঁধন কেটে ফেলে জাফর ।
শিওরে ওঠে তৃপ্তি ।
‘প্লিজ, স্টপ ইট ! স্টপ ইট ফর গডস সেক ! প্লিজ ...’
মেয়েটার আকুতিতে কান না দিয়ে ফতুয়ার দুই কাঁধ কেটে ফেলে জাফর । আলগোছে পোশাক দুটো মাটিতে পড়ে যায় এবার ।
‘আপনার সব স্ট্যাটাস হিন্দীতে থাকে । কমেন্ট করেন হিন্দীতে । ব্যাপারটা কি বলবেন ? নিজের ভাষা কি ফেসবুক চালাতে যথেষ্ট বলে মনে হয় না ?’
জাফর এগিয়ে এসে সামনে দাঁড়ায় অর্ধনগ্ন মেয়েটার । ওর চোখ ধিকিধিকি জ্বলছে ।
‘আমি লেখালেখি করি কেন জানেন ? খ্যাতির মূল্য আমার কাছে নেই । আমি শুধু চাই বাংলা ভাষাকে কিছু দিয়ে যেতে । সামান্য কিছু । আর আপনাদের মত মানুষদের আমার দেখা লাগে – যারা ইচ্ছে করে বাংলাভাষাকে অবহেলা করছে । হিন্দী বলে নিজের স্মার্টনেস প্রকাশ করছে !’
মেয়েটার আকুতিতে কান না দিয়ে ফতুয়ার দুই কাঁধ কেটে ফেলে জাফর । আলগোছে পোশাক দুটো মাটিতে পড়ে যায় এবার ।
‘আপনার সব স্ট্যাটাস হিন্দীতে থাকে । কমেন্ট করেন হিন্দীতে । ব্যাপারটা কি বলবেন ? নিজের ভাষা কি ফেসবুক চালাতে যথেষ্ট বলে মনে হয় না ?’
জাফর এগিয়ে এসে সামনে দাঁড়ায় অর্ধনগ্ন মেয়েটার । ওর চোখ ধিকিধিকি জ্বলছে ।
‘আমি লেখালেখি করি কেন জানেন ? খ্যাতির মূল্য আমার কাছে নেই । আমি শুধু চাই বাংলা ভাষাকে কিছু দিয়ে যেতে । সামান্য কিছু । আর আপনাদের মত মানুষদের আমার দেখা লাগে – যারা ইচ্ছে করে বাংলাভাষাকে অবহেলা করছে । হিন্দী বলে নিজের স্মার্টনেস প্রকাশ করছে !’
আর কিছু না বলে নিজেকে সামলে নেয় জাফর ।
আবার তৃপ্তির পেছনে চলে যায় । ফর্সা পিঠটাকে ও এখন একফালি সাদা কাগজ ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছেনা ।
অথবা মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের একটা খালি পেইজ !
একটা বড় সাইজের কাঁচি তুলে এনে মেয়েটার দুই কাঁধের মাঝের চামড়াটা শক্ত করে ধরে জাফর । একটু টেনে এনে কেটে ফেলে চামড়াটুকু ।
আবার তৃপ্তির পেছনে চলে যায় । ফর্সা পিঠটাকে ও এখন একফালি সাদা কাগজ ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছেনা ।
অথবা মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের একটা খালি পেইজ !
একটা বড় সাইজের কাঁচি তুলে এনে মেয়েটার দুই কাঁধের মাঝের চামড়াটা শক্ত করে ধরে জাফর । একটু টেনে এনে কেটে ফেলে চামড়াটুকু ।
কি আশ্চর্য ! কাটা মাত্র চামড়াটা বেশ ছোট হয়ে ওর হাতে চলে আসে ।
সেই সাথে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসা রক্ত ।
এবার একটা ফাঁকা জায়গা তো পাওয়া গেল ! ওদিক দিয়ে ছুরিটা ঢুকিয়ে দেয় জাফর । মেয়েটার ভেতরে কতটা হিন্দীপ্রেম লুকিয়ে আছে তা তো চিড়ে না দেখলে বোঝা যাবে না !
সেই সাথে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসা রক্ত ।
এবার একটা ফাঁকা জায়গা তো পাওয়া গেল ! ওদিক দিয়ে ছুরিটা ঢুকিয়ে দেয় জাফর । মেয়েটার ভেতরে কতটা হিন্দীপ্রেম লুকিয়ে আছে তা তো চিড়ে না দেখলে বোঝা যাবে না !
তৃপ্তি চিৎকার করছে অসহ্য যন্ত্রণায় ।
বাবা-মা পর্যন্ত একটিবারও ওর গায়ে হাত তোলে নি । তবে আজ জাফরের শো-টাইম ।
বাবা-মা পর্যন্ত একটিবারও ওর গায়ে হাত তোলে নি । তবে আজ জাফরের শো-টাইম ।
লাল রক্তগুলো তৃপ্তির ধবধবে পিঠটাকে ধীরে ধীরে লাল করে দিচ্ছে । এবার সেই রক্তে আঙ্গুল ডুবিয়ে তৃপ্তির সামনে আসে জাফর । হাতের আঙ্গুল দিয়ে ওর পেটে ধীরে ধীরে লেখতে চায় ‘বাংলাকে ভালোবাসি’ ।
কিন্তু হাতের আঙ্গুলে আর কফোঁটা রক্ত আসে ?
আবার পিঠের ক্ষতে হাত ডুবিয়ে দিতেই তৃপ্তির শরীর মুচড়ে ওঠে প্রচন্ড যন্ত্রণায় । তার মাঝেই পেটে বাকিটুকু লেখে ফেলে জাফর ।
কিন্তু হাতের আঙ্গুলে আর কফোঁটা রক্ত আসে ?
আবার পিঠের ক্ষতে হাত ডুবিয়ে দিতেই তৃপ্তির শরীর মুচড়ে ওঠে প্রচন্ড যন্ত্রণায় । তার মাঝেই পেটে বাকিটুকু লেখে ফেলে জাফর ।
‘প্লিজ ...’ গলা নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে তৃপ্তির ।
জাফর বুঝতে পারে – এভাবে চললে যে কোন সময় জ্ঞান হারাবে মেয়েটা । হাতে বেশি সময় নেই । ওকে জ্ঞান হারাতে দেওয়া যাবে না ।
পিঠের দিকে চলে এসে ছোট মাপের একটা ছুরি এনে দ্রুত পিঠের চামড়া কেটে লেখতে থাকে ও, ‘হিন্দীকে ঘৃণা করি’ ।
তীব্র ব্যাথায় নিস্তেজ ভাবটা চলে যায় তৃপ্তির । ছটফট করে উঠে সোজা হতে চায় ও । কিন্তু হাত-পা যে বাঁধা !
জাফর বুঝতে পারে – এভাবে চললে যে কোন সময় জ্ঞান হারাবে মেয়েটা । হাতে বেশি সময় নেই । ওকে জ্ঞান হারাতে দেওয়া যাবে না ।
পিঠের দিকে চলে এসে ছোট মাপের একটা ছুরি এনে দ্রুত পিঠের চামড়া কেটে লেখতে থাকে ও, ‘হিন্দীকে ঘৃণা করি’ ।
তীব্র ব্যাথায় নিস্তেজ ভাবটা চলে যায় তৃপ্তির । ছটফট করে উঠে সোজা হতে চায় ও । কিন্তু হাত-পা যে বাঁধা !
জাফরও মহা বিরক্ত । এই ‘ঘৃ’ জিনিসটা এত পেঁচানো কেন ? মানুষের চামড়া কেটে লেখতে বেশ ঝক্কি দেখা যাচ্ছে ।
আর মেয়েটার চিৎকারও যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে । অসহ্যরকম যন্ত্রণা করল দেখি এই মেয়ে ! শালী চুপ করে না কেন ? হিন্দী ভাষা নিয়ে পিএইচডি করার সময় কি মনে ছিল না এসব ?
আর মেয়েটার চিৎকারও যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে । অসহ্যরকম যন্ত্রণা করল দেখি এই মেয়ে ! শালী চুপ করে না কেন ? হিন্দী ভাষা নিয়ে পিএইচডি করার সময় কি মনে ছিল না এসব ?
ক্রোধে উন্মত্ত জাফর মেয়েটার পিঠ ঝাঁঝরা করে দিতে থাকে একের পর এক আঘাতে ।
চেঁচাতে চেঁচাতে গলা ভেঙ্গে যায় তৃপ্তির ।
তারপর আস্তে করে মাথা বুকে ঝুলে পড়ে ওর । রাত দশটার বাসটা আর ধরা সম্ভব হবে না ওর জন্য কোনদিনই !
চেঁচাতে চেঁচাতে গলা ভেঙ্গে যায় তৃপ্তির ।
তারপর আস্তে করে মাথা বুকে ঝুলে পড়ে ওর । রাত দশটার বাসটা আর ধরা সম্ভব হবে না ওর জন্য কোনদিনই !
এই সময় দরজাতে প্রচন্ড জোরে লাথি হাঁকায় কেউ ।
চমকে উঠে সেদিকে তাকায় জাফর । মুখে, চুলে রক্ত ।
পুলিশ এসে গেছে ?
চমকে উঠে সেদিকে তাকায় জাফর । মুখে, চুলে রক্ত ।
পুলিশ এসে গেছে ?
*
ঘরটা থেকে বের হওয়ার কোন উপায় নেই ।
ধীরে ধীরে দরজাটা খুলে ফেলে জাফর ।
ঘরটা থেকে বের হওয়ার কোন উপায় নেই ।
ধীরে ধীরে দরজাটা খুলে ফেলে জাফর ।
সকালের ফলো করতে থাকা মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে ।
মাথা ঝোঁকায় জাফর । বুঝে গেছে সব ।
‘গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্য ।’ বিড় বিড় করে বলে ও ।
ঠিকই শুনতে পায় মেয়েটা । মাথা নাড়ে শুধু একটু ।
‘গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্য ।’ বিড় বিড় করে বলে ও ।
ঠিকই শুনতে পায় মেয়েটা । মাথা নাড়ে শুধু একটু ।
‘তিন মিনিটের মাঝে বেড়িয়ে যেতে হবে তোমাকে , মারুফ । ইউ হ্যাভ অনলি থ্রি মিনিটস ।’
‘মানে ?’ বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে জাফর ।
‘জেল বা ফাঁসী তোমার জন্য না মারুফ । বাংলা ভাষা তোমার কাছে আরও অনেক কিছু ডিজার্ভ করে । এই সময় থামতে পারো না তুমি । গেট লস্ট । ইমিডিয়েটলি ।’
‘তৃপ্তির বডিটা ... ’
‘মাগীকে আমি সামলাচ্ছি ।’ কথা শেষ করতে দেয় না ওকে মেয়েটা । টুক করে জাফরের ঠোঁটে একটা চুমু খেয়ে এগিয়ে যায় লাশটার দিকে । বাংলা ভাষার স্বার্থে আজ এখানে আরেকটা আত্মত্যাগ হবে ।
‘মানে ?’ বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে জাফর ।
‘জেল বা ফাঁসী তোমার জন্য না মারুফ । বাংলা ভাষা তোমার কাছে আরও অনেক কিছু ডিজার্ভ করে । এই সময় থামতে পারো না তুমি । গেট লস্ট । ইমিডিয়েটলি ।’
‘তৃপ্তির বডিটা ... ’
‘মাগীকে আমি সামলাচ্ছি ।’ কথা শেষ করতে দেয় না ওকে মেয়েটা । টুক করে জাফরের ঠোঁটে একটা চুমু খেয়ে এগিয়ে যায় লাশটার দিকে । বাংলা ভাষার স্বার্থে আজ এখানে আরেকটা আত্মত্যাগ হবে ।
ছুটে বের হয়ে যায় মারুফ । মেয়েটাকে কেন জানি কিছুতেই মনে করতে পারে না ও । কোথায় দেখেছে ওকে ? আগে কোথায় দেখেছে ?
বাড়ি থেকে বেশ কিছুদূর চলে এসেছে জাফর – দেখতে পায় একঝাঁক পুলিশের গাড়ি তারস্বরে হুইসেল বাজিয়ে ছুটে চলেছে ওর বাসার দিকে । একটা দীর্ঘশ্বাস চাপে জাফর । মেয়েটা বের হতে পেরেছে তো ?
ঝোপঝাড় ভেঙ্গে ছুটছে মারুফ হায়দার ।
বাবা-মায়ের আকিকা দেওয়া এই নামটা জনমন থেকে বিস্মৃত হয়েছে বহু আগেই । ফেসবুক আইডি খোলার সময় অল্পবয়েসে নামটা করে নিয়েছিল জাফর আহমেদ । সেই থেকে এই নামেই বেশি পরিচিত ও ।
বাবা-মায়ের আকিকা দেওয়া এই নামটা জনমন থেকে বিস্মৃত হয়েছে বহু আগেই । ফেসবুক আইডি খোলার সময় অল্পবয়েসে নামটা করে নিয়েছিল জাফর আহমেদ । সেই থেকে এই নামেই বেশি পরিচিত ও ।
ছুটতে ছুটতেই একচিলতে হাসি ফুটে ওঠে জাফরের মুখে । পরের বইটার জন্য প্লট পেয়ে গেছে ও ।
তৃপ্তির সারা শরীরে যেখানে ইচ্ছা ছুরি গাঁথাচ্ছে ঋতু ।
বাড়ির চারপাশে পুলিশের হুইসেল শোনার পরও থামে না মেয়েটা । গাঁথিয়েই যায় ছুরিটা ।
মারুফ ছেলেটা কিভাবে কিভাবে যেন পাল্টে গেল ! লেখা নিয়ে অবসেশনে ভুগত ছেলেটা । আর ঋতুরও ঠিক পছন্দ ছিল না সময়গুলো ওকে না দিয়ে মারুফের লেখার পেছনে দেওয়ার ব্যাপারটা ।
অবশ্য যেই মুহূর্তে মারুফ জানতে পারে লেখক মারুফকে ঋতু চায় না – সেই মুহূর্তেই সরে দাঁড়ায় ওর জীবন ছেড়ে ।
বইমেলায় মারুফের প্রথম বইটা বের হওয়ার পর থেকেই নিজের ভুলটা বোঝে ঋতু । ছেলেটাকে সাপোর্ট দেওয়া উচিত ছিল । তাহলে হয়ত আজ মারুফ হায়দারকে জাফর আহমেদে পাল্টে যেতে দেখতে হত না ওকে ।
নিজের কোন সত্ত্বাটা কখন অ্যাকটিভ থাকে এটাই বোঝে না ছেলেটা !
পড়ে থাকা মেয়েটার ওপর সব ক্ষোভ আর রাগ ঝেড়ে ফেলতে চায় ঋতু একবুক অতৃপ্তি নিয়ে ।
অবশ্য যেই মুহূর্তে মারুফ জানতে পারে লেখক মারুফকে ঋতু চায় না – সেই মুহূর্তেই সরে দাঁড়ায় ওর জীবন ছেড়ে ।
বইমেলায় মারুফের প্রথম বইটা বের হওয়ার পর থেকেই নিজের ভুলটা বোঝে ঋতু । ছেলেটাকে সাপোর্ট দেওয়া উচিত ছিল । তাহলে হয়ত আজ মারুফ হায়দারকে জাফর আহমেদে পাল্টে যেতে দেখতে হত না ওকে ।
নিজের কোন সত্ত্বাটা কখন অ্যাকটিভ থাকে এটাই বোঝে না ছেলেটা !
পড়ে থাকা মেয়েটার ওপর সব ক্ষোভ আর রাগ ঝেড়ে ফেলতে চায় ঋতু একবুক অতৃপ্তি নিয়ে ।
হুড়মুড় করে বেজমেন্টে ঢুকে যায় ডিটেক্টিভ সাইফুদ্দীন । মাঝপথে লেখক ব্যাটা হুট করে কোনদিকে চলে গিয়েছিল ট্রেইল পান নি তাই দেরী হয়ে গেল । মনে মনে প্রমাদ গুনছিলেন তিনি – বেজমেন্টে ঢুকে অস্ত্র উঁচিয়ে দেখলেন ভয়টা সত্য ছিল ।
‘তুমি ?’ থমকে যান ডিটেক্টিভ সাইফুদ্দীন – আজ বিকেলেই যাকে কানা ফকিরের ছদ্মবেশে দেখা গেছিল নদীর তীরে । কিন্তু এখন সেসব মেকআপ নেই তাঁর মুখে ।
‘কে স্যার ?’ হঠাৎ থমকে যাওয়া বসের জন্য সামনের দিকটা দেখতে পাচ্ছে না সহকারী গোয়েন্দা রেদওয়ান ।
একটু সরে তাকে জায়গা করে দিতেই থমকে যায় তরুণ গোয়েন্দাও ।
‘কে স্যার ?’ হঠাৎ থমকে যাওয়া বসের জন্য সামনের দিকটা দেখতে পাচ্ছে না সহকারী গোয়েন্দা রেদওয়ান ।
একটু সরে তাকে জায়গা করে দিতেই থমকে যায় তরুণ গোয়েন্দাও ।
তাদের ধারণা আগাগোড়াই ভুল ছিল । একুশে ফেব্রুয়ারী করা খুনদুটো লেখক জাফর আহমেদের ছিল না ।
খুনগুলো করেছে তার এক্স-গার্লফ্রেন্ড ঋতু !
দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার দিকে এগিয়ে যায় ডিটেক্টিভ সাইফুদ্দীন । হাতে হ্যান্ডকাফ ।
পেছন থেকে তাকে কাভার দেয় সহকারী রেদওয়ান ।
পুলিশ বাহিনীর লোকেরাও নেমে এসেছে বেজমেন্টে ।
একটু দূরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে ওরা ।
পেছন থেকে তাকে কাভার দেয় সহকারী রেদওয়ান ।
পুলিশ বাহিনীর লোকেরাও নেমে এসেছে বেজমেন্টে ।
একটু দূরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে ওরা ।
বিনা প্রতিবাদে হাতকড়া হাতে তুলে নেয় ঋতু ।
বাইরে বের হতে আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড় বিড় করে বলে শুধু, ‘বাংলাকে ভালোবাসি ।’
বাইরে বের হতে আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড় বিড় করে বলে শুধু, ‘বাংলাকে ভালোবাসি ।’